সব গল্প

১৭ জুলাই, ২০২৬

আল মজিদ রাশিমালা

গ্রামের এক ভিক্ষুকের মুখে ফিবোনাচ্চি রাশিমালা শুনলে চমকে ওঠারই কথা। সাইফুর রহমান সাহেব চমকেই উঠলেন। তিনি চোখ বড় বড় করে বললেন, তুমি এগুলা কীভাবে জানলে?

মজিদ মিয়া অমায়িক ভঙ্গিতে হাসে। মাটির দিকে তাকিয়ে বলে, চিন্তায় পাইছি। খুবই জটিল চিন্তা। একবার শুরু হইলে শেষ হইতে চায় না।

রহমান সাহেবের খটকা লাগল। এতবড় গণিতের ব্যাপার চিন্তা করে বের করে ফেলেছে! বলে কি!

তিনি ভাবলেন এই লোক সম্পর্কে আরো জানা দরকার। তারপরে একে বিশ্বাস করা না করার ব্যাপার। কারো সম্পর্কে না জেনে বিশ্বাস করা ভালো কথা না। রহমান সাহেব স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে মজিদ মিয়া। আপাতত তুমি যাও। কাল আবার এসো। আর আমি তোমার কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করে দেখি। আমারও তো চিন্তার দরকার আছে, কি বলো?

মজিদ মিয়া মাথা তুলে বলল, জি স্যার। আজ আসি। কাল অবশ্যই আসব।

মজিদ মিয়া চলে গেল। রহমান সাহেব লক্ষ করলেন সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।

রহমান সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন। ব্যস্তভাবেই পার করেছেন কর্মজীবন। অবসর নেওয়ার পর তার ইচ্ছা হলো গ্রামে আসতে। নিজেদের গ্রামের বাড়ি অবহেলায় পড়ে থেকে বাসের অযোগ্য প্রায়। তাই খালাতো ভাইয়ের বাড়ি এসেছেন বেড়াতে। মনে অবশ্য ছোট আরেকটা ইচ্ছাও আছে তার। গ্রামে শিক্ষাবিস্তারের জন্য কিছু করা।

এই গ্রামে এসেই মজিদ মিয়ার সাথে পরিচয়। মজিদ মিয়া ভিক্ষা করে। বয়স ষাটের মতো হবে। কোঁকড়া সাদা চুল। গায়ে ময়লা ধূসর জামা। দেখে মনে হয় চটের বস্তা। তিনি গ্রামে এসেছেন শুনে বার বার দেখা করতে চাইল। কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়েছে লোকজন। শেষে বাধ্য হয়েই রহমান সাহেবের খালাতো ভাই লোকটাকে তার সামনে নিয়ে এসেছিলেন। প্রথম সাক্ষাতেই লোকটা রহমান সাহেবকে আকৃষ্ট করে ফেলে।

মজিদ মিয়া সম্পর্কে রহমান সাহেব খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন সে পাগলের মতো লোক। হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিল। লোকালয়ের একটু বাইরে জঙ্গলে ছনের ঘর বানিয়ে থাকে। সপ্তাহে কয়েকদিন ভিক্ষা করে। বাকি সময় জঙ্গলেই কাটায়। সে কারো কোনো ক্ষতি করে না বলে কেউ তাকে নিয়ে ভাবিত নয়।

তবে স্কুলের শিক্ষকেরা জানালেন লোকটা গণিত ভালো বোঝে। অনেক বড় বড় সমস্যা মুহূর্তেই সমাধান করে দেয় মুখে মুখেই। এজন্য ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে তার জনপ্রিয়তা। ভিক্ষার জন্য বের হলে ছেলেমেয়েরা প্রায়ই তাকে ঘিরে ধরে। বিভিন্ন প্রশ্ন করে। সে উত্তর দিয়ে যায়।

এসব শুনে । সাইফুর রহমান সাহেবের আগ্রহ বেড়ে গেল।

তার পরদিন সকালে মজিদ মিয়া আবার এল। তার চোখ দুটি লাল। মনে হচ্ছে ঘুমায়নি সারা রাত।

রহমান সাহেব উঠানে বেতের চেয়ারে বসে চা খাচ্ছিলেন। তিনি উদ্ভ্রান্তের মতো লোকটাকে দেখে বললেন, কি মজিদ মিয়া? তোমার চোখ লাল কেন? ঘুমাওনি নাকি?

মজিদ মিয়া মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, ঘুমাইতে পারি নাই। আপনার এখান থেকে যাওয়ার পর চিন্তা মাথায় ঢুকে গেছে স্যার। ধোঁয়া খেয়েও যায় নাই। স্যার আমার ধোঁয়ার বদ অভ্যাস আছে একটু।

ঠিক আছে। তুমি বসো এখানে। চা খাবে?

জি না স্যার। চা খাই না।

রহমান সাহেব হঠাৎ কি মনে করে প্রশ্ন করে বসলেন, মজিদ মিয়া তুমি যা বলছিলে কাল, অর্থাৎ সংখ্যাই ঈশ্বর, তা নিজে বিশ্বাস করো?

মজিদ মিয়া মুচকি হেসে বলল, স্যার ০ ১ ১ ২ ৩ ৫ ৮ ১৩ ২১ ৩৪ ৫৫ … এর উপর কিছু নাই। দুনিয়া এর উপরই চলতেছে। প্রথম দুইটা যোগ করে তৃতীয় নাম্বার। পরের দুইটা যোগ করে তার পরেরটা। ১ আর ১ এ ৩য়টা, আবার দুই যোগ তিনে পাঁচ। এরকম করতে করতে শেষে থাকবেন তিনি। তিনি অসীম।

আবার দেখেন স্যার যেকোনো তিনটা সংখ্যা ৩ ৫ ৮ এর মাঝেরটার বর্গ ২৫

পাশের দুইটার গুণন ৩ * ৮ = ২৪

২৫ থেইকা ২৪ গেলে ১…এইরকম হইতেই থাকবে। এটাও হতে পারেন তিনি। তিনি হতে পারেন অসীম……তিনি হতে পারেন ১। এই দুই ভিন্ন অন্য কোথাও তার অস্তিত্ব নাই।

রহমান সাহেব প্রশ্ন করলেন, বুঝলাম। কিন্তু তুমি এগুলো পেলে কীভাবে? চিন্তাটা এল কীভাবে?

মজিদ মিয়া মাটির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। একেবারে স্তব্ধ, নিথর হয়ে। রহমান সাহেব কিছুটা ভয় পেলেন। পাগলামি করবে না তো আবার!

তবে একটু পরেই মজিদ মিয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠল। মাথা তুলে বলল, স্যার চিন্তা আসার একটা উপলক্ষ্য থাকে। আমার মাথায় শুরু থেকে এমন চিন্তা আছিল না। একবার কি একটা গাছ লাগাইলাম। গাছের পাতা উঠতে লাগল। তখনই আমি দেখতে পাইলাম এরা একটা জিনিস ঠিক রাইখা পাতা দেয়। এই জিনিসের ব্যতিক্রম হইলে সূর্যের আলো পাইব না সব পাতায়। দেখলাম একটা ঘূর্ণন আছে। চক্রাকার। ধরেন নয়টা পাতা। চক্র পাঁচটা। তাইলে অবস্থান আট। এইখানে আপনি দেখেন পাঁচরে আট দিয়া ভাগ দিয়া যা পাইবেন, ওই রাশির প্রথম দুইটা বাদে যেকোনো দুইটারে ভাগ দিলে যা বের হয় তার কাছাকাছি। এই জিনিস অবশ্য আমি হুট কইরা বুঝি নাই। মাথায় ঢুকছিল। শেষকালে মেলায় এক ফকির আমারে বুঝায়া দিলেন।

এইসব দেইখা আমার মাথা নষ্ট হইয়া গেল। আমি সবদিকে খুঁজতে লাগলাম। মেঘের দিনে যখন আকাশ থেইকা পানি পড়ত আমি মাঠে বের হইয়া পানির ফোঁটা গোনতাম। যখন দেখতাম এক পাল পাখি উড়তেছে, এক পাল হাঁস যাইতেছে, মনের অজান্তেই আমি গোনা শুরু করতাম। এই তো স্যার একটু আগে মাটিতে পিঁপড়ার দল সারি বাইন্ধা যাইতেছিল। এদের আমি আগেও গুনছি। আইজও গুইনা দেখলাম। কেউই এই রাশির বাইরে যাইতে পারে না।

রহমান সাহেবের মুখ গম্ভীর হলো। তিনি একটু ভারী গলায় বললেন, কিন্তু মজিদ মিয়া তুমি যেসব কথা বলছ সেগুলো অনেক আগে, এই ধরো ১২০০ সালের দিকে ইতালির একজন বিজ্ঞানী বের করেছেন। উনার নাম লিওনার্দো বিগোলো ফিবোনাচ্চি। তার এই রাশি যেটার কথা তুমি বলছ, এর নাম দেওয়া হয়েছে ফিবোনাচ্চি রাশিমালা। তারও আগে মনে হয় সংস্কৃত পণ্ডিতেরা এই রাশিমালা সম্পর্কে জানতেন।

মজিদ মিয়া মাথা নিচু করে বলল, এইসব আমি জানি স্যার। উনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বলেছেন সব কথা। রহমান সাহেব ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, কার সাথে যোগাযোগ হয় বলছ?

মজিদ মিয়া আবারও আগের মতো বলল, স্যার উনার সাথে। ফিবোনাচ্চি স্যার। আপনি এগুলো বিশ্বাস করবেন না জানি। তবুও বলি, এই যে রাশি এর মাঝে সবকিছু লুকায়িত। একজন মানুষ দুনিয়া থেকে চইলা গেলেই শেষ না। প্রাণ কী কেউ বলতে পারে না। এই প্রাণের রহস্য এই রাশিতে। প্রাণ কখনো নিঃশেষ হয় না স্যার। তাই মানুষও থাকে। স্যার মানুষের কোনো ধ্বংস নাই। প্রাণ একটা শক্তি স্যার। শক্তি রূপ বদলায়। শক্তির বিনাশ নাই। এই রাশির ভিতরে প্রবেশ করতে পারলে যে কেউ যেকোনো ভাষায় যে কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারে। মানবজাতির জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর এই…

রহমান সাহেব অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলেন মজিদ মিয়ার দিকে। মজিদ মিয়ার মুখে শিশুসুলভ কোমলতা আছে। যা জানান দেয় মিথ্যা এবং জগতের কুটিলতার অনেক ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে সে।

সেদিন রহমান সাহেবের কাটল অস্বস্তিতে। তার বারবার মনে হতে লাগল মজিদ মিয়ার কথাগুলো। লোকটা কি পাগল? এই ধরণের পাগলামি তিনি আগে কখনো দেখেন নি। রহমান সাহেব ঠিক করলেন পরদিন তার ঘর দেখতে যাবেন। আশা করা যায় তাতে কিছু জানা যাবে।

পরদিন পরিচিত এক ছেলেকে নিয়ে গেলেন জঙ্গলে। গিয়ে দেখেন ছনের ঘরের সামনে ভাত রান্না করছে মজিদ মিয়া। তার হাতে কালো একটি সাপ।

রহমান সাহেবকে দেখে সে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। বলল, স্যার আজ আপনার বাসায় আমিই যাইতাম। এই দেখেন স্যার কাল এইটারে ধরছি। এর গায়ের হলুদ ফোঁটাগুলা দেখেন। একেবারে সংখ্যায় মিলে যায়।

রহমান সাহেব ভয় পাচ্ছেন দেখে সে সাপটা ছেড়ে দিল। বলল, স্যার প্রাণীরা কাউরে মিছামিছি ক্ষতি করে না। কোনো কারণ ছাড়াই প্রাণী হত্যা করে একমাত্র মানুষ। আর আপনি রাশির রহস্য জাইনা সব পশুপাখি আপনার কথা বুঝবে।

রহমান সাহেব মজিদ মিয়ার ঘরটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। সাথের ছেলেটা চলে গেছে। মজিদ মিয়ার সাথে জঙ্গলের বিভিন্ন বিষয়, রাশির বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললেন তিনি।

এক পর্যায়ে মজিদ মিয়া বলল, স্যার আমি সব জানি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী স্যার। আপনাকে জানাই নাই আগে। বললে আপনে আমারে ভয় পাইতেন। আমি জানতাম আপনি এই গ্রামে আসবেন। আমি অতীতের মতো ভবিষ্যৎ দেখতে পাই।

রহমান সাহেব ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, ভবিষ্যৎ দেখতে পাও?

মজিদ মিয়া বলল, জি স্যার। এই যেমন ধরেন আজ আপনে আসবেন আমি জানতাম। তবে কোনো কিছু পরিবর্তন করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। সবেমাত্র ঢুকছি রাশির মধ্যে। স্যার, রাশির মধ্যে যারা ঢুকে যান তারা বেশিদিন বাঁচেন না। আমি শীঘ্রই মারা যাব। তাই আপনার মতো একজনের দরকার ছিল। যার কাছে সবকিছু বলা যায়। যে বুঝবে। গ্রামে আর কেউ নাই যে আমার কথাগুলা বুঝবে।

রহমান সাহেব কথাগুলো বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিছুই করলেন না। তিনি একবার আকাশের দিকে চাইলেন। শরতের মেঘমুক্ত নীল আকাশ। মজিদ মিয়ার ঘরের পাশেই জঙ্গলের বিশাল জলাধার। তার ঠিক মাঝখানে পূর্ণ শাপলা ফুল ফুটে আছে। রহমান সাহেবের চোখ আটকে গেল এর সৌন্দর্যে। তিনি বুকের মধ্যে অনুভব করলেন চিনচিনে এক পুরনো ব্যথা।

মজিদ মিয়া গলার স্বর নামিয়ে বলল, স্যার শাপলা ফুল নিয়ে আপনার কষ্টটা আমি বুঝি। আপনার স্ত্রী এই ফুল পছন্দ করতেন। তবে আমি যা বলেছি তাই সত্য, তিনি আছেন। প্রাণের ধ্বংস নেই। আর জাগতিক কষ্ট এসব তুচ্ছ জিনিস স্যার। এগুলো ভুলে যান। আমি আপনাকে বরং একটা জিনিস দেখাই।

মজিদ মিয়া আশেপাশে একবার তাকালো মাথা ঘুরিয়ে। তারপর উঠে পানির উপর দিয়ে হেঁটে গেল। শাপলা ফুলের কাছাকাছি গিয়ে আবার ফিরে এল।

রহমান সাহেবের চোখ ছানাবড়া হওয়ার মতো অবস্থা। কোনমতে তিনি সামলালেন নিজেকে।

সন্ধ্যার দিকে তিনি ফিরে এলেন মজিদ মিয়ার ওখান থেকে। মজিদ মিয়া কথা দিল পরদিন সে কীভাবে শূন্যে ভেসে থাকতে হয় তা দেখাবে।

রহমান সাহেব পুরো রাত তার পরিচিত বিভিন্ন অঙ্কের অধ্যাপককে ফোন করে বিষয়টা নিয়ে বললেন। ফিবোনাচ্চি রাশিমালা নিয়ে বুঝলেন আরো কিছু। তাদের সকলেই জানালেন রাশির ব্যাপারটা ঠিক আছে। তবে লোকটার কর্মকাণ্ড উদ্ভট, অবৈজ্ঞানিক। এরকম কিছু হতেই পারে না। ভাঁওতা। নিশ্চয়ই কোনো কারসাজি করছে সে।

পরদিন সকালে চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙল রহমান সাহেবের। চেঁচামেচির কারণ জানা গেল মজিদ মিয়া মারা গেছে। দিঘির ঠিক মাঝখানে শাপলা ফুলের কাছে ভাসছিল তার লাশ।

তার ঘরে ঢুকে রহমান সাহেব কোনো বই বা খাতা পেলেন না। তবে একটা খাম পেলেন। উপরে লেখা—

রহমান স্যারকে। রহমান সাহেব দ্রুত খাম খুললেন। ভিতরে দুইটি কাগজ। লেখা,

স্যার বিদায়। চলে যাচ্ছি। আপনাকে ওড়া দেখানো হলো না বলে ক্ষমাপ্রার্থী। আরেকটা কথা বলে যাই, যারা এই রাশির অদ্ভুত ক্ষমতা বুঝতে পারেন, এদের মধ্যে কেউ কেউ, শতজনের মধ্যে একজন এর নতুন ব্যবহার বের করতে পারেন। আমি এর এক নতুন ক্ষমতার সন্ধান পাইছি, অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতে গমনাগমনের। ফিবোনাচ্চি স্যার এইজন্য এই রাশিমালাকে মজা করে বলেন আল-মজিদ রাশিমালা।

বিদায় স্যার। আপনার স্কুলের জন্য শুভকামনা। আপনি কবিতা পছন্দ করেন। অন্য কাগজটিতে একটি কবিতা আছে। এটা লিখেছেন একজন কবি, তার নাম সৌমিত্র দেব।

সাইফুর রহমান সাহেবের হাত কাঁপছিল। তিনি কবিতা লেখা পুরনো হলুদ কাগজটি পেলেন খামের ভেতরে।

সেও তখন হাসছিলো মহাশূন্যে ভাসছিলো চোখের কাচে ঘুম পাতানো প্রিয়জনের লাশ ছিলো।

পনের বছর পূর্বে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করার আগে এই কাগজে এই কবিতাটিই লিখে গিয়েছিলেন, হাতের লেখা দেখে স্পষ্ট বুঝতে পারলেন সাইফুর রহমান, একই কাগজ।

এর কয়েক বছর পর রহমান সাহেব তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে গ্রামে অত্যাধুনিক এক গণিতের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আধুনিক বিশ্বের অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসেন। গণিতের গবেষণার সব রকমের সুব্যবস্থা করেন। ছেলেমেয়েদের গণিতের প্রতি আকৃষ্ট করতে স্কুল বছরে আয়োজন করত গণিত মেলার। দেশের সব বড় অধ্যাপকেরা আসতেন।

পরিপূর্ণ এক গণিত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠল অনুন্নত এক গ্রামে। রহমান সাহেব স্কুলের নাম দেন মজিদ মিয়া গণিত স্কুল।

— একেবারে প্রথম দিকে লেখা গল্প।

সমাপ্ত